পরিক্ষা-নিরীক্ষা এবং বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে; বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বহুবার। ক্রীড়া সাংবাদিকরা লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও অনেক সমালোচনা করেছেন।
তবে এবার দক্ষিণ আফ্রিকার তিক্ত অভিজ্ঞতায় এবার নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের উইকেটগুলোর পরিবর্তন আনার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে দেশের ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সব ঠিক থাকলে ঘরের মাঠেই হয়তো স্পোর্টিং উইকেট পেতে যাচ্ছে ক্রিকেটাররা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ঘরের মাঠে সব সময় ফ্ল্যাট কিংবা টার্নিং উইকেটে খেলে থাকে। তা আন্তর্জাতিক ম্যাচেই হোক আর ঘরোয়া টুর্নামেন্টই হোক। সবসময় প্রতিপক্ষকে স্পিন আক্রমণে ঘায়েল করার চিন্তা থাকে। কিন্তু দেশে এই পদ্ধতিতে সফলতা পেলেও বিদেশ সফরে গিয়ে ধুঁকতে হয় মাশরাফি-মুস্তাফিজদের। সেখানে তো এই টোটকা কাজে লাগে না! যেটি ক্রিকেটাররা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।
ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই টাইগারদের একেবারে পাড়া-মহল্লার ক্রিকেটারে পরিণত করে হোয়াইটওয়াশ করেছে স্বাগতিক প্রোটিয়ারা।
এই দুঃস্বপ্নের সফর শেষে অধিনায়ক-কোচসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বিসিবিতে। তার ধারাবাহিকতায় দেশের মাটিতে এবার স্পোর্টিং উইকেট বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। খুব শিগগিরই দেশের বেশ কিছু ভেন্যুতে স্পোর্টিং উইকেট বানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
তিনি বলেছেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকায় বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশ যে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়বে সেটি ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো বাউন্সি উইকেটে খেলতে হয়নি টাইগারদের। স্পোর্টিং উইকেটই পেয়েছিল তারা। কিন্তু তাতেই খেই হারিয়েছে। '
নব-নির্বাচিত এই পরিচালক আরও বলেন, 'ওরা যে উইকেট বানিয়েছিল তাতে আপনি ব্যাটিংও করতে পারেন, বোলিংও করতে পারেন। কোনো ফাস্ট বোলার চাইলে বাউন্সারও দিতে পারে। কিন্তু যাদের ওই সামর্থ্য নেই তারা পারবে না। ব্যাটসম্যানদেরও সুযোগ ছিল, বোলারদেরও ছিল। এই ধরনের স্পোর্টিং উইকেট জরুরি ভিত্তিতে আমাদের ২ তিনটি ভেন্যুতে তৈরির কাজ শুরু করতে হবে। '
বিসিবির এই মিডিয়া কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, 'আমরা ওয়ানডেতে মোটামুটি একটা অবস্থানে থাকলেও টেস্ট ম্যাচে সেই ধরনের অবস্থানে নেই। সামনে আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে। সেখানে অনেক ম্যাচ থাকবে। তাতে আমাদের ভালো করতে হবে। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে আরও উন্নতি করতে হবে। বড় দৈর্ঘ্যে উন্নতি করতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো আরও শক্তিশালী করা দরকার। এই কাঠামোর মধ্যে উইকেটগুলোকে স্পোর্টিং করতে হবে। '
গো নিউজ ২৪ / এ আই
আপনার মতামত লিখুন :